মণিপুরে বিজেপি জোট কেন ছেড়ে দিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার

ভারতের মণিপুর রাজ্যে বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) সরকার থেকে বেরিয়ে গেছে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দল জনতা দল-ইউনাইটেড (জেডিইউ)। বিহারে বিজেপি ও জেডিইউ একসঙ্গে সরকার চালালেও মণিপুরে বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করল জেডিইউ। এতে অবশ্য মণিপুরে বিজেপির সরকার চালাতে কোনো অসুবিধা হবে না। কারণ ৬০ সদস্যের মণিপুর বিধানসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর এত দিন ৪৬ জন সদস্য ছিলেন। জোটে জেডিইউর সদস্য মাত্র একজন। জোট থেকে দলটি সরে যাওয়ায় বিধানসভায় এনডিএর সদস্য এখন ৪৫।

২০২২ সালের মার্চের শেষ দিকে মণিপুর বিধানসভা নির্বাচনে জেডিইউর মোট ছয়টি আসন পেয়েছিল। তবে ওই বছরেই সেপ্টেম্বরে ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন জেডিইউ এমএলএ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। ফলে ৬০ সদস্যের বিধানসভায় জেডিইউর সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়ায় একজনে। সরকার চালাতে বীরেন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের কোনোই সমস্যা পড়তে হবে না।

ঠিক কী কারণে নীতীশ কুমার মণিপুরে বিজেপির হাত ছেড়ে দিলেন, তা এখনই স্পষ্ট নয়। ধরে নেওয়া হচ্ছে, মণিপুরে বীরেন সিংয়ের বিরুদ্ধে যে অপশাসনের অভিযোগ উঠেছে, সেই কারণে জোট ছাড়ল জেডিইউ। দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় চলা সহিংসতায় মণিপুরে এ পর্যন্ত আড়াই শর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, ঘরবাড়ি হারিয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, জোট ছাড়ার আসল কারণ অন্য। ২০২৫ সালের শেষের দিকে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। মনে করা হচ্ছে, এই নির্বাচনে এবারে বিজেপি এককভাবে ক্ষমতায় আসতে সব শক্তি প্রয়োগ করবে।

নীতীশ কুমারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্বাচনে লড়লেও তাঁকে এবারে মুখ্যমন্ত্রী করতে রাজি নয় বিজেপি। কারণ, বিজেপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তিনি প্রতিবারই কম সংখ্যক আসন পেয়েও মুখ্যমন্ত্রী হন। ২০২৫ সালে বিজেপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে আশা করছে। ফলে জোটসঙ্গী হলেও বিজেপি নীতীশ কুমারের দলকে এবার বেশি আসন ছাড়বে না। বিজেপি চেষ্টা করবে অধিকাংশ আসনে নিজেরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার। বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছেন নীতীশ কুমার।

এ অবস্থায় নীতীশ কুমার সাধারণত বিজেপির হাত ছেড়ে তাঁর প্রধান বিরোধী ও ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম সদস্য রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সভাপতি লালুপ্রসাদ যাদবের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে লড়েন অথবা নির্বাচন পরবর্তী পর্যায়ে সমঝোতার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যান। এটা তিনি অতীতে করেছেন। কম সংখ্যক আসন পেয়েও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। নির্বাচনে জেতার পরে অবশ্য আবার লালুপ্রসাদের হাত ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। এভাবেই গত দেড় দশক ধরে নীতীশ কুমার বিহারে রাজনীতি করছেন।

গত রোববার নীতীশ আবার লালুপ্রসাদ যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকের পরে পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, নির্বাচনের আগে তিনি আবার বিজেপি ছেড়ে লালুপ্রসাদ যাদবের সমর্থনে নির্বাচন লড়বেন। আবার কম সংখ্যক এমএলএ নিয়ে সরকার গঠন করবেন ও মুখ্যমন্ত্রী হবেন। লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদবকে আবারও উপমুখ্যমন্ত্রী করবেন। ফলে আগামী দিনের বিজেপিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা এককভাবে নির্বাচনে যাবে, নাকি নীতীশ কুমারকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে লড়াইয়ের চেষ্টা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *